ছবিঃ সংগৃহীত
দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে নীলফামারীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে নীলসাগর, তিস্তা ব্যারাজ, চিনি মসজিদ, নীলকুঠি, খ্রিষ্টান গির্জা, ধর্মপালের গড় ও কুন্দুপুকুর মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটছেন মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে এসব এলাকা পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। নীলফামারী ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষও এসব স্থানে ঘুরতে আসছেন।
নীলসাগর: নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জে অবস্থিত নীলসাগর জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। প্রায় ৫৩ দশমিক ৯০ একর আয়তনের এ দিঘি ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। দর্শনার্থীদের জন্য নৌকা, স্পিডবোট, ঘোড়ার গাড়ি ও শিশুদের বিনোদনের নানা ব্যবস্থা রয়েছে। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। মাছ ধরার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
তিস্তা ব্যারাজ: নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ ঈদ ও পূজার ছুটিতে দর্শনার্থীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। নদীর অপরূপ দৃশ্য উপভোগ, নৌকা ও স্পিডবোটে ভ্রমণ এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে ভিড় করেন মানুষ। দর্শনার্থীদের ঘিরে নদীর তীরে বসেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান ও অস্থায়ী বিনোদনের আয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎসবের সময় তাঁদের বেচাকেনা বেড়ে যায়।
নীলকুঠি ও খ্রিষ্টান গির্জা: জেলা শহরের নটখানা গ্রামে অবস্থিত নীলকুঠি ব্রিটিশ আমলে নীলচাষ ও কৃষকদের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস বহন করছে। অন্যদিকে, সৈয়দপুরের গোলারহাটে অবস্থিত প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো লাল ইটের খ্রিষ্টান গির্জাটিও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। ঐতিহাসিক স্থাপনা দুটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন।
ধর্মপালের গড় ও কুন্দুপুকুর মাজার: জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল গ্রামে পাল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। পুরোনো মন্দির, রাজপ্রাসাদ ও অন্যান্য স্থাপনা দেখতে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসেন। এ ছাড়া জেলা শহরের প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কুন্দুপুকুর মাজারে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ দোয়া, মানত ও সিন্নি নিয়ে আসেন। এ ছাড়া জেলার চিনি মসজিদ, পাল রাজার বাড়ি, ভীমের মায়ের চুলা ও দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানাসহ বিভিন্ন স্থান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান, নীলসাগরে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সেখানে রাতযাপনের ব্যবস্থাও আছে। তিনি নীলসাগর, তিস্তা ব্যারাজ, চিনি মসজিদ, খ্রিষ্টান গির্জা ও পাল রাজার বাড়িসহ নীলফামারীর দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।